ইতিহাসকে ভুলা যায়না,শুধু মাফ করে দেওয়া যায়.....
দুনিয়ার সবচাইতে ভয়ানক প্রতিশোধ হলো নিশ্চুপ থাকা..... রাজনীতি মানে মহত্ব,রাজনীতি মানে আত্মত্যাগ, রাজনীতি মানে নিজে কি পেলাম তা চিন্তা না করে কতটুক দিতে পারলাম তাই চিন্তা করা।
আর এটুক ধারন করতে পারলে দেখবেন রাজনীতি খুব সুন্দর,রাজনীতি মহাপবিত্র। নুপুরের দাম হাজার টাকা, কিন্তু তার স্থান পায়ে।
টিপের দাম এক টাকা হলেও তার স্থান হয় কপালে।
ইতিহাস সাক্ষী, লবনে কখনো পোকা ধরেনি। কিন্তু মিষ্টিতে প্রতিদিনই পোকা ধরে, পিঁপড়াও ছাড়েনা।
মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত মানুষকে স্মরণ করা হয়, আবার এই মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়!
মানুষ সোজা পথে চলতে চায় না, বাঁকা পথে সবারই আগ্রহ বেশি।
সেজন্যই মদ বিক্রেতাকে কারো কাছে যেতে হয় না। কিন্তু দুধ বিক্রেতাকে বাজারে বাজারে যেতে হয়, বাড়ি বাড়িও যেতে হয়।
আমরা দুধ বিক্রেতাকে সর্বদা বলি দুধে পানি মেশাননি তো............. ?
অথচ মদে আমরা নিজেরাই পানি মিশিয়ে খাই।
মানুষকে জানোয়ার বললে ক্ষেপে যায়, কিন্তু সিংহ বা বাঘের বাচ্চা বললে খুশি হয়............!
অথচ বাঘ আর সিংহ দুটোই পশুর বাচ্চা।
কি আজব আমরা........................
"তুফান ছুটেছে তুফানের বেগে" রিক্সাচালকের ছেলে আজ কোটিপতি, রিক্সা ষ্টান্ডে চাঁদাবাজি, অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত :-
এতদিন পর এই খবর কেন?
এদেশের সরকারী তদারকি সংস্থা এতদিন কি করছে?
অপরাধী তো একদিনে এত বড় হয়ে যাইনি? এতদিন আশ্রয় প্রশ্রয় কারা দিয়েছে? এতদিন সাংবাদিক ভাইরা এই সাংঘাতিক খবর প্রকাশ কপতে পারেননি কেন? এতদিন পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেন নি?
এতদিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কি করেছে?
সাধারন মানুষের চাওয়া বিচার। এমন বিচার হতে হবে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ে আর কোন কুচক্র যেন বাংলার মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
রাজনীতি হবে মানবতা এবং কল্যানের জন্য, রাজনীতি করবে শিক্ষিত মেধাবী এবং মানব কল্যানে নিয়োজিত লোক।
কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে (৯০%) স্থানিয় রাজনৈতিক নেতা অশিক্ষিত, নেষাখোর, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চোর, বদমায়েশ!
স্কুল কলেজ থেকে ঝরে পড়ার পর 'অছাত্র নেষাখোর' হয়ে যাচ্ছে ছাত্র নেতা।
এলাকার সন্ত্রাসী হয়ে যাচ্ছে যুব নেতা।
এলাকার ছিনতাইকারী হয়ে যাচ্ছে শ্রমিক নেতা।
আর এলাকার সবচেয়ে বড় বদমায়েশ হয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষকে পরিচালনার জন্য জননেতা!!! ️যারা আমাকে চিনে,আমার সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা রাখেন কিন্তু যে কোন কারনে আমাকে সহ্য করতে পারেন না তাদেরকে বলছি। হুম আপনাদেরকে আবারো স্মরন করে দিচ্ছি, 'খেলতে খেলতে আমি হেরে যেতে রাজি আছি।তা স্রোতের বিপরীতে হলেও রাজি আছি।কিন্তু ওয়াকওভার দেওয়ার মানুষ আমি না।আমার নৈতিক অবস্থান আমার কাছে মূখ্য।জগতের নৈতিকতা পাল্টে গেল কিনা তা মূখ্য নয়।জগতের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজের নৈতিকতা অক্ষুন্ন রেখে খেলতে খেলতে হেরে যাওয়ার মধ্যে যে সুখ আমি খুঁজে পাই তা তোমাদের বিজয় উল্লাসেও অর্জিত হবে কিনা সন্দেহ!' আবারো বলছি, যারা আমাকে নিয়ে খুব বেশী ধারনা রাখেন তাদের বলছি,আমিও হয়ত তোমাদের নিয়ে কিছুটা ধারনা রাখি।কিন্তু হীনমন্যতা মনে পোষন করিনা।আবার বলছি,জগতে আপনাদের/তোমাদের মতো সব মানুষের মনে হিংসা,বিদ্বেশ,পরনিন্দাকারীর মন জয় করতে আমি রাজি না।তোমাদের দৌড় হলো অন্যজনের ভালো কাজের পেছনে হিংসা,বিদ্বেশ ছড়ানো পর্যন্ত।তোমাদের নিজস্ব কোন ক্রিয়েটিভিটি যেমন নেই,তেমনি তোমাদের নিজস্ব কোন সফলতাও নেই।তোমাদের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা হীনমন্যতা তোমাদেরকে প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই বেলা পুড়িয়ে মারবে। আজকে আপনার গায়ে শক্তি আছে বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেই পারেন। আপনার টাকা আছে বলে অন্যের দরিদ্রতা নিয়ে উপহাসও করতে পারেন। তবে কালও আপনি এই অবস্থায় থাকবেন কি না, কে বলতে পারে! দেখা গেল, লাথি দেয়ার জন্য যে পা দু'খানা, তাই প্যারালাইজড হয়ে আছে! লাথি কীভাবে দেবেন?
জীবন সিনেমার মতো নয়। কখনো কখনো সিনেমার থেকেও ট্র্যাজেডিক! সিনেমার তবু হ্যাপি এন্ডিং থাকে, কারো কারো জীবনে তাও থাকে না! সবই যেহেতু আমাদের কর্মফল, তাই কাজগুলো এমন হোক, যেন ফলগুলো মধুর হয়। কখনো কাঁদতে গিয়ে যেন কাউকে কাঁদানোর অনুশোচনায় ভুগতে না হয়!
দশ টাকায় চাল খাওয়াবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন আপনারা, সেই চাল এখন পঞ্চাশ টাকা কেজি! কৃষকদের বিনামূল্যে ইউরিয়া সার দেবেন বলেছিলেন আপনারা, সেই ইউরিয়া সার এখন হাজার টাকা মন! ঘরে ঘরে চাকুরি দেবেন বলেছিলেন, দিয়েছেন ঘরে ঘরে হাহাকার! একটি বাড়ি একটি খামার শুরুতেই ছাগলে খায়া ফালাইছে! ছাগলে মুখ দিলে সেই জিনিস আর বাড়েনা, একটি বাড়ি একটি খামারও আর বাড়েনাই। দশ হাজার টাকায় দোয়েল ল্যাপটপের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, দোয়েল কোথায় জানি না,আস্ত একটা শেয়ার বাজার গিলে খেয়েছেন আপনারা, শেয়ার বাজারে সর্বস্ব হারিয়ে কত মানুষ সর্বশান্ত হয়ে গেছে! রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো লুটপাট করে মুলধন খেয়েছেন আপনারা, আপনাদের পাশাপাশি ডেস্টিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ইউ নি পে... তারা ও খেয়েছে।
গত বিশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে অজানা লাখ কোটি টাকা! কাদের টাকা এইসব? কারা পাচার করেছে? রিজার্ভ লুটের সাথে কারা জড়িত? প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যয় বেড়েছে তিন থেকে চারগুণ?
ফোর জির কথা বলছেন? দেখেন আপনার মুখ থেকে ফোর জির কথা শুনে আমার মোবাইলটাও হাসছে! আপনারা থ্রি জি দিচ্ছেন বলে দাবী করছেন অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। যারা গ্রামে থেকে নেট ইউজ করে তাদের থ্রি জির কথা বইলে দেখেন, ঠ্যাঙ্গাবে! একজন থ্রি জি বলতে বুঝাইছেন- GOOD POLICY, GOOD GOVERNANCE & GOOD GOVERNMENT... আর আরেকজন বুঝছেন থ্রি জি ইন্টারনেট সেবা! যে দেশে নেপালের রাজধানী নেপচুন আর পীথাগোরাস উপন্যাসিক! সে দেশে 3G মানে নেটওয়ার্ক আর GP মানে গ্রামীনফোন ভাবাটাই তো অনেক বড় অর্জন! বিচার না পেয়ে ফজর আলী তার আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপায়, তনুকে তো ভাল্লুকে খেয়েছে, সাগর-রুনী বলে কেউ ছিলইনা কখনো! আমাদের নাই তলদেশে সলীল সমাধি লাভ করা পিণাক সনাক্তের প্রযুক্তি, নেই রানা প্লাজার দেয়াল কাটার মেশিন, নেই তাজরীনের আগুন নেভানোর জন্য লম্বা মই, নেই হাওড়ের জলে মেশা ইউরেনিয়াম শনাক্তের প্রযুক্তি, নেই শেলা নদীর তেল অপসারণের রাসায়নিক…কেবল একটা জিনিসই আছে, সেটা হল দামী স্মার্ট ফুন…আর ইহা নিয়েই বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ!
শরত চন্দ্রের ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র চৈত্র মাসে গরু হারিয়ে চৈত্রের রোদে গরু খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি এসে তার স্ত্রী কে বলেছিল 'জল দে মা ঘটি খায়' পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার কিশোর ছেলে হাততালি দিয়ে বলে উঠেছিল কী মজা কী মজা…বাবা আমার মা কে মা ডেকে ফেলছে! গরু হারানো সেই ব্যক্তি তখন ছেলের উদ্দেশ্যে বলেছিলোঃ চৈত মাসে গরু হারাইলে তুইও বউ রে মা ডাকতিরে ভাই!!!
সর্বশেষে বলতে চাই,
আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান(বাংলাদেশ) কে দেখি নাই,
আমি ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদ (মালেশিয়া) কে দেখি নাই,
আমি লি কুয়ান ইউ (সিঙ্গাপুর) কে দেখি নাই,
আমি আব্রাহাম লিংকন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট) কে দেখি নাই,
আমি দেখতে চাই তাদের মত করে গড়ে ওঠা মানুষদের কে।
ইতিহাসকে ভুলা যায়না,শুধু মাফ করে দেওয়া যায়.....
দুনিয়ার সবচাইতে ভয়ানক প্রতিশোধ হলো নিশ্চুপ থাকা..... রাজনীতি মানে মহত্ব,রাজনীতি মানে আত্মত্যাগ, রাজনীতি মানে নিজে কি পেলাম তা চিন্তা না করে কতটুক দিতে পারলাম তাই চিন্তা করা।
আর এটুক ধারন করতে পারলে দেখবেন রাজনীতি খুব সুন্দর,রাজনীতি মহাপবিত্র। নুপুরের দাম হাজার টাকা, কিন্তু তার স্থান পায়ে।
টিপের দাম এক টাকা হলেও তার স্থান হয় কপালে।
ইতিহাস সাক্ষী, লবনে কখনো পোকা ধরেনি। কিন্তু মিষ্টিতে প্রতিদিনই পোকা ধরে, পিঁপড়াও ছাড়েনা।
মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত মানুষকে স্মরণ করা হয়, আবার এই মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়!
মানুষ সোজা পথে চলতে চায় না, বাঁকা পথে সবারই আগ্রহ বেশি।
সেজন্যই মদ বিক্রেতাকে কারো কাছে যেতে হয় না। কিন্তু দুধ বিক্রেতাকে বাজারে বাজারে যেতে হয়, বাড়ি বাড়িও যেতে হয়।
আমরা দুধ বিক্রেতাকে সর্বদা বলি দুধে পানি মেশাননি তো............. ?
অথচ মদে আমরা নিজেরাই পানি মিশিয়ে খাই।
মানুষকে জানোয়ার বললে ক্ষেপে যায়, কিন্তু সিংহ বা বাঘের বাচ্চা বললে খুশি হয়............!
অথচ বাঘ আর সিংহ দুটোই পশুর বাচ্চা।
কি আজব আমরা........................
"তুফান ছুটেছে তুফানের বেগে" রিক্সাচালকের ছেলে আজ কোটিপতি, রিক্সা ষ্টান্ডে চাঁদাবাজি, অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত :-
এতদিন পর এই খবর কেন?
এদেশের সরকারী তদারকি সংস্থা এতদিন কি করছে?
অপরাধী তো একদিনে এত বড় হয়ে যাইনি? এতদিন আশ্রয় প্রশ্রয় কারা দিয়েছে? এতদিন সাংবাদিক ভাইরা এই সাংঘাতিক খবর প্রকাশ কপতে পারেননি কেন? এতদিন পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেন নি?
এতদিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কি করেছে?
সাধারন মানুষের চাওয়া বিচার। এমন বিচার হতে হবে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ে আর কোন কুচক্র যেন বাংলার মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
রাজনীতি হবে মানবতা এবং কল্যানের জন্য, রাজনীতি করবে শিক্ষিত মেধাবী এবং মানব কল্যানে নিয়োজিত লোক।
কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে (৯০%) স্থানিয় রাজনৈতিক নেতা অশিক্ষিত, নেষাখোর, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চোর, বদমায়েশ!
স্কুল কলেজ থেকে ঝরে পড়ার পর 'অছাত্র নেষাখোর' হয়ে যাচ্ছে ছাত্র নেতা।
এলাকার সন্ত্রাসী হয়ে যাচ্ছে যুব নেতা।
এলাকার ছিনতাইকারী হয়ে যাচ্ছে শ্রমিক নেতা।
আর এলাকার সবচেয়ে বড় বদমায়েশ হয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষকে পরিচালনার জন্য জননেতা!!! ️যারা আমাকে চিনে,আমার সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা রাখেন কিন্তু যে কোন কারনে আমাকে সহ্য করতে পারেন না তাদেরকে বলছি। হুম আপনাদেরকে আবারো স্মরন করে দিচ্ছি, 'খেলতে খেলতে আমি হেরে যেতে রাজি আছি।তা স্রোতের বিপরীতে হলেও রাজি আছি।কিন্তু ওয়াকওভার দেওয়ার মানুষ আমি না।আমার নৈতিক অবস্থান আমার কাছে মূখ্য।জগতের নৈতিকতা পাল্টে গেল কিনা তা মূখ্য নয়।জগতের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজের নৈতিকতা অক্ষুন্ন রেখে খেলতে খেলতে হেরে যাওয়ার মধ্যে যে সুখ আমি খুঁজে পাই তা তোমাদের বিজয় উল্লাসেও অর্জিত হবে কিনা সন্দেহ!' আবারো বলছি, যারা আমাকে নিয়ে খুব বেশী ধারনা রাখেন তাদের বলছি,আমিও হয়ত তোমাদের নিয়ে কিছুটা ধারনা রাখি।কিন্তু হীনমন্যতা মনে পোষন করিনা।আবার বলছি,জগতে আপনাদের/তোমাদের মতো সব মানুষের মনে হিংসা,বিদ্বেশ,পরনিন্দাকারীর মন জয় করতে আমি রাজি না।তোমাদের দৌড় হলো অন্যজনের ভালো কাজের পেছনে হিংসা,বিদ্বেশ ছড়ানো পর্যন্ত।তোমাদের নিজস্ব কোন ক্রিয়েটিভিটি যেমন নেই,তেমনি তোমাদের নিজস্ব কোন সফলতাও নেই।তোমাদের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা হীনমন্যতা তোমাদেরকে প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই বেলা পুড়িয়ে মারবে। আজকে আপনার গায়ে শক্তি আছে বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেই পারেন। আপনার টাকা আছে বলে অন্যের দরিদ্রতা নিয়ে উপহাসও করতে পারেন। তবে কালও আপনি এই অবস্থায় থাকবেন কি না, কে বলতে পারে! দেখা গেল, লাথি দেয়ার জন্য যে পা দু'খানা, তাই প্যারালাইজড হয়ে আছে! লাথি কীভাবে দেবেন?
জীবন সিনেমার মতো নয়। কখনো কখনো সিনেমার থেকেও ট্র্যাজেডিক! সিনেমার তবু হ্যাপি এন্ডিং থাকে, কারো কারো জীবনে তাও থাকে না! সবই যেহেতু আমাদের কর্মফল, তাই কাজগুলো এমন হোক, যেন ফলগুলো মধুর হয়। কখনো কাঁদতে গিয়ে যেন কাউকে কাঁদানোর অনুশোচনায় ভুগতে না হয়!
দশ টাকায় চাল খাওয়াবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন আপনারা, সেই চাল এখন পঞ্চাশ টাকা কেজি! কৃষকদের বিনামূল্যে ইউরিয়া সার দেবেন বলেছিলেন আপনারা, সেই ইউরিয়া সার এখন হাজার টাকা মন! ঘরে ঘরে চাকুরি দেবেন বলেছিলেন, দিয়েছেন ঘরে ঘরে হাহাকার! একটি বাড়ি একটি খামার শুরুতেই ছাগলে খায়া ফালাইছে! ছাগলে মুখ দিলে সেই জিনিস আর বাড়েনা, একটি বাড়ি একটি খামারও আর বাড়েনাই। দশ হাজার টাকায় দোয়েল ল্যাপটপের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, দোয়েল কোথায় জানি না,আস্ত একটা শেয়ার বাজার গিলে খেয়েছেন আপনারা, শেয়ার বাজারে সর্বস্ব হারিয়ে কত মানুষ সর্বশান্ত হয়ে গেছে! রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো লুটপাট করে মুলধন খেয়েছেন আপনারা, আপনাদের পাশাপাশি ডেস্টিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ইউ নি পে... তারা ও খেয়েছে।
গত বিশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে অজানা লাখ কোটি টাকা! কাদের টাকা এইসব? কারা পাচার করেছে? রিজার্ভ লুটের সাথে কারা জড়িত? প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যয় বেড়েছে তিন থেকে চারগুণ?
ফোর জির কথা বলছেন? দেখেন আপনার মুখ থেকে ফোর জির কথা শুনে আমার মোবাইলটাও হাসছে! আপনারা থ্রি জি দিচ্ছেন বলে দাবী করছেন অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। যারা গ্রামে থেকে নেট ইউজ করে তাদের থ্রি জির কথা বইলে দেখেন, ঠ্যাঙ্গাবে! একজন থ্রি জি বলতে বুঝাইছেন- GOOD POLICY, GOOD GOVERNANCE & GOOD GOVERNMENT... আর আরেকজন বুঝছেন থ্রি জি ইন্টারনেট সেবা! যে দেশে নেপালের রাজধানী নেপচুন আর পীথাগোরাস উপন্যাসিক! সে দেশে 3G মানে নেটওয়ার্ক আর GP মানে গ্রামীনফোন ভাবাটাই তো অনেক বড় অর্জন! বিচার না পেয়ে ফজর আলী তার আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপায়, তনুকে তো ভাল্লুকে খেয়েছে, সাগর-রুনী বলে কেউ ছিলইনা কখনো! আমাদের নাই তলদেশে সলীল সমাধি লাভ করা পিণাক সনাক্তের প্রযুক্তি, নেই রানা প্লাজার দেয়াল কাটার মেশিন, নেই তাজরীনের আগুন নেভানোর জন্য লম্বা মই, নেই হাওড়ের জলে মেশা ইউরেনিয়াম শনাক্তের প্রযুক্তি, নেই শেলা নদীর তেল অপসারণের রাসায়নিক…কেবল একটা জিনিসই আছে, সেটা হল দামী স্মার্ট ফুন…আর ইহা নিয়েই বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ!
শরত চন্দ্রের ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র চৈত্র মাসে গরু হারিয়ে চৈত্রের রোদে গরু খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি এসে তার স্ত্রী কে বলেছিল 'জল দে মা ঘটি খায়' পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার কিশোর ছেলে হাততালি দিয়ে বলে উঠেছিল কী মজা কী মজা…বাবা আমার মা কে মা ডেকে ফেলছে! গরু হারানো সেই ব্যক্তি তখন ছেলের উদ্দেশ্যে বলেছিলোঃ চৈত মাসে গরু হারাইলে তুইও বউ রে মা ডাকতিরে ভাই!!!
সর্বশেষে বলতে চাই,
আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান(বাংলাদেশ) কে দেখি নাই,
আমি ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদ (মালেশিয়া) কে দেখি নাই,
আমি লি কুয়ান ইউ (সিঙ্গাপুর) কে দেখি নাই,
আমি আব্রাহাম লিংকন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট) কে দেখি নাই,
আমি দেখতে চাই তাদের মত করে গড়ে ওঠা মানুষদের কে।