Followers
Following
Recommendations
Castings
Views
http://www.ikhlasrahman.com
2 Followers
1 Following
0 Castings
0 Recommendations
179 Views
http://www.ikhlasrahman.com
Height : 170 cm / 5ft 7in
Weight : 82 kg / 180 lbs
Ethnicity : Asian
Skin Color : Brown
Eye colour : Brown
Chest : 91 cm / 36 in
Waist : 88 cm / 35in
Hair Length : Medium
Hair Type : Straight
Hair Color : Black
আকাশটা অনেক মেঘলা । যার জন্যে চারপাশটা অন্ধকার হয়ে গেছে । হালকা বৃষ্টি পড়ছে । অর্ক, যাত্রী ছাউনীর নিচে বসে আছে । সে খুউব চিন্তিত আর একটু আগে তার সাথে যা ঘটেছে তা সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না ।
এই যে শুনছেন ...
অর্ক একটু অবাক হল , তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখেও আশেপাশে ভাল করে দেখে নিয়ে , সেই মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলল, আমাকে বলছেন?
- আর কাকে বলব ? আর তো কেউ নেই এখানে । আমি অভ্র আর আপনি ?
- আমি অর্ক ।
- অর্ক সাহেব , আপনি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন । অবশ্য এই ফিলিংসটা আপনার জন্যে নতুন । মাত্র একঘন্টা হয়েছে তো এজন্য আপনার এমনটা মনে হচ্ছে ।
অর্ক-তার মানে আপনিও ...
অভ্র – জ্বী , আমিও ...
অর্ক- এখন কি করব ?
- ভাল প্রশ্ন । চলুন আপনাকে ইন্টারেস্টিং কিছু বলি ।
- উঠব এখান থেকে, বলছেন?
- উঠতে তো হবেই অর্ক সাহেব । নাহলে আপনার চিন্তা-ভাবনা বেড়েই যাবে ।
- কই যাব ?
- এই মোড়ের মাথায় একটা রেস্টুরেন্ট আছে । ওখানে গিয়ে বসি চলুন । এ সি রেস্টুরেন্ট ।
- মজা করছেন ?
- আহা ! বললাম তো মাত্র একঘন্টা হয়েছে আপনার আর আমার কয়েকবছর । তো আমার অভিজ্ঞতা একটু বেশি । আর ওখানে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করতে আসবেনা । আর মজার বিষয় আমাদের আর কাউকে ডিস্টার্ব করার যোগ্যতাও নেই ।
- হুমম...
অর্ক আর অভ্র হাটা শুরু করল ।
অভ্র – আচ্ছা , আপনার ফেসবুক আইডি’র পাসওয়ার্ড কেউ জানে?
অর্ক - আপনি খুব রশিক মানুষ বোধ হয়...
অভ্র - তা একটু আধটু । প্রশ্নের উত্তরটা কিন্তু পেলাম না ।
অর্ক – নাহ ।
অভ্র – আপনি একটু কম কথা বলেন ।
অর্ক – আপনি বেশি ।
হা হা । উচ্চস্বরে অভ্র হাসতে লাগল । অর্ক অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে । রেস্টুরেন্টে পৌছাল তারা । রেস্টুরেন্টে এখন লোকজন কম । রেস্টুরেন্ট-টা বেশ বড় । লাইটিইংও অনেক সুন্দর । কোনার দিকের একটা টেবিলে তারা দুজন বসে পড়ল ।
অভ্র – বলুন কি খাবেন ?
অর্ক – আবার মজা করছেন কেন ?
অভ্র – আচ্ছা , আপনি এত সিরিয়াস কেন ?
অর্ক – সিরিয়াস না । অনেক কিছু চলছে মাথার মধ্যে ...
অভ্র – কি করে হল আপনার এই অবস্থা ?
অর্ক – গাড়ী নিয়ে বের হয়েছিলাম আজ সকালে । গন্তব্য ঠিক করিনি । আমিই ড্রাইভ করছিলাম । কখন চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝিনি । চোখ খুলে দেখি গাড়ীর চারপাশে পানি । সিট বেল্ট টাও বাধা । কি করব বুঝে উঠতে পারিনি ...
অভ্র – শুনেছি , পানিতে ডুবে মরলে নাকি জান্নাতে যায় । হা হাহা হাহাহা হা...
অর্ক – ওহ ... আপনি পারেনও । বাসার কাউকে কিছু বলে আসিনি । বাবা মা জানতে পারবে যখন বড্ড কষ্ট পাবে !!
অভ্র – আর সেজন্য আপনার এখন বাড়ী যাবার কোন দরকার নেই । লাশ দেখেছেন আপনার ?
অর্ক – নাহ । লোক জড় হয়েছিল অনেক । আমাকে গাড়ী থেকে বের করেছে কিনা কে জানে ?
অভ্র – বাদ দিন । এখন আপনি মুক্ত । নো টেনশন ...
অর্ক – আর আপনার গল্পটা কি ?
অভ্র – মার্ডার ।
অর্ক – মানে? কে করল ?
অভ্র – আমার এক খুব কাছের মানুষ ।
অর্ক – কীভাবে ?
অভ্র – ছবি তোলার জন্য ছাদে উঠেছিলাম । ছাদে আবার রেলিং নেই (হাহা) ।
দুইহাত দু’দিকে দিয়ে পেছন থেকে ছবি নিতে চাইল আমার কাছের মানুষটি । আমিও তার কথামত সেটাই করলাম । আর কয়েকমিনিটের ব্যবধানে ছাদ থেকে মাটিতে ।
অর্ক - কেন করল ?
অভ্র – ও জেনে আপনার কি লাভ ? আমারও প্রথম প্রথম মনে হয়েছিল তাকে কেন এত বিশ্বাস করতে গেলাম, তাকে যদি বিশ্বাস না করতাম আজ বেচে থাকতাম । এখন আর এসব মনে হয়না । কারন, বেচে তো যাবনা আর !
অর্ক – তো এখন কি কাজ আমাদের ?
অভ্র– এখনই তো উপযুক্ত সময় , মানুষকে পর্যবেক্ষণ করার । বাইরে যান , যেকোন একটা মানুষ কে সিলেক্ট করুন এবং সারাটা সময় ধরে তাকে পর্যবেক্ষন করুন । আপনি দেখতে পারবেন মানুষটি ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে , হাজারবার , হাজারভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন সে আপনাকে শুনতেই পাবে না ...
অর্ক – জানেন , আমি ড্রাইভ করার সময় কখনও ঘুমায় না । আজ কীভাবে এমনটা হল এখনও বুঝতে পারছিনা । আচ্ছা , আমাকে আপনি কীভাবে চেনেন?
অভ্র-আমি অনেকদিন ধরে আপনাকে পর্যবেক্ষন করছি । যাবার আগে এতটুকুই বলি ...
অর্ক – কোথায় যাবেন ? আর আমাকে যদি চেনেন তাহলে আমার নাম কেন জিজ্ঞেস করেছিলেন?
অভ্র – আরেকজনকে পর্যবেক্ষন করতে আর ফরমালিটি মেইন্টেইন করেছি,ব্যছ । মানুষ মারা গেলে আর পর্যবেক্ষন করে কি লাভ ...!!
তো যা বলছিলাম , আপনি মানুষটা অনেক বোকা । আপনার স্ত্রীর কান্না সহ্য হয় না আপনার । বোকা বললে ভুল হবে , আপনি আবেগী আতেল ...
অর্ক – এটার মানে কি ?
অভ্র – অর্ক সাহেব । আজ আমি মোটামুটি খুশি কারন আজ আপনি আমার কথা শুনতে পারছেন । কিন্তু কোন লাভ নেই আপনি আর ফিরে আসবেন না । আপনি এই রেস্টুরেন্ট-টা চিনতে পেরেছেন?
অর্ক – (এদিক -ওদিক তাকিয়ে ) ঠিক মনে করতে পারছিনা ।
অভ্র – হাহা । এটাই সেই টেবিল যেখানে আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে প্রথম মিট করতে এসেছিলেন ।
অর্ক – ওহ , হ্যা তাইতো... একদম খেয়াল নেই ।
অভ্র – জানি সেটা । আপনি আবেগী আতেল ।
অর্ক – ধুর ... কি বলছেন ? পরিষ্কার করে বলুন ...
অভ্র – ফেসবুকে ইফতির সাথে পরিচয় আপনার । আমি ইফতির সাথে ,আপনার চ্যাটিং এর সময় থেকে, আপনাকে সাবধান করে যাচ্ছি । নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি আপনাকে , অনেকবার বলেছি । আপনি শুনতে পান নি ।
(অর্ক কৌতূহলী চোখে অভ্রের দিকে তাকিয়ে আছে )
আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ইফতির বার্থডেট ,ই-মেইল, আপনার ব্যংক , ক্রেডিট কার্ড এমনকি আপনার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ডও ইফতির বার্থডেট । সিরিয়াসলি , আপনার লাইফ ইন্সুরেন্স এর টাকাও ইফতির নামে , ফ্ল্যাট-গাড়ী সবকিছুই ইফতির নামে ... আচ্ছা , আপনি তো কফি পান করেন না কখনও ব্রেক-ফাস্ট এর পর । আজ সকালে তাহলে কেন করলেন ?
অর্ক – ইফতি-ই তো জোর করেছিল । কেন বলুন তো?
অভ্র – (মুচকি হেসে উঠে দাড়াল) । কফিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল ।
আপনি জানেন , আমার কাছের মানুষটার নাম কি ?
অর্ক – কি বলছেন এসব ? না...
অভ্র – অর্ক সাহেব , বিশ্বাস করা ভাল , অন্ধ-বিশ্বাস একদমই নয় (অভ্র হাটা শুরু করল) ।
অর্ক – আপনার কাছের মানুষের নাম কি ?
অভ্র – (পেছন ঘুরে) জবাব দিল , ইফতি ... !!!
(অর্ক নিজের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে । একটু পরে মাটি দেয়া হবে । অর্ক ইফতির দিকে তাকিয়ে আছে । ইফতির চোখে পানি , হাতে টিস্যু আর ঠোটে তৃপ্তির হাসি । অর্কও হাসছে ... হাহা ...হাহা... )
কি হল এপাশ -ওপাশ করছ কেন? ঘুমাবেনা আজ?
- উফফ...এত ঘুমিয়ে হবেটা কি? চোখটা একটু খোলা রাখ না। দেখ কি সুন্দর আকাশ। তুমি জানালা কেন লাগিয়েছ? খোল ওটা...
- না আমার ইচ্ছে নেই, আকাশ দেখার।
-কেন?
- আমি ক্লান্ত। আমার বিশ্রামের দরকার।
-ধুর..আমার ইচ্ছের কোন দামই নেই তোমার কাছে...
- তোমার ইচ্ছের দাম দিয়ে হবেটা কি? তোমার না আছে আকার, না আছে কোন পরিশ্রম করার ক্ষমতা। শুধু এলোমেলো চিন্তা করে আমাকে খাটানো... যথেষ্ট হয়েছে আজ আর না...!
- হ্যা..আমি তো অক্ষমই। বাধা পড়েছি যে তোমার সাথে। বিধাতা তোমাকে আর আমাকে আলাদা করলেই পারতেন.!!
- পাগলের মত প্রলাপ করনা। তুমি, আমি আলাদা হলে, এ পৃথিবীতে কি কাজ করতাম আমরা?
[ এ পর্যায়ে সত্ত্বা চুপ। তার উত্তর জানা নেই। সে দেহের ভেতরে বন্দি! ]
দেহ : মন খারাপ করনা। আজকাল অনেক ব্যস্ত থাকি তো, তোমাকে সময় দেয়া হচ্ছেনা। আকাশটাই তো দেখবে ! জানালাটা খুলে দিচ্ছি...
- থাক তার দরকার নেই।
- রাগ করনা। দেখে নাও আকাশটা। তোমার তো স্মৃতি ধরে রাখার বাক্সের সাথে ভাল সম্পর্ক আছে। আকাশটাকেও ওখানে বন্দি করে ফেল। আমার বিশ্রামের সময় তুমি সময় করে আকাশটা আবার দেখ।
- সত্ত্বা মুচকি হেসে, আমি দেখলে তো তোমাকেও দেখতে হবে। আর আমাকে তো চেন, আমার জল্পনাকল্পনার সব রঙ মিশিয়ে তারপর আমি দেখব আকাশটা আর দৃশ্যপট গুলোও আমি সাজাবো...
- আচ্ছা সাজিও। নিজের ইচ্ছামত...
[কিছুক্ষণ এর মধ্যেই দেহ বিশ্রামে চলে যায়। আর সত্ত্বার দুষ্টুমি শুরু হয়। নানা ধরনের এলোমেলো স্মৃতি নিয়ে তার সাথে কখনও আকাশটাকে জুড়ে দেয়, কখনও দৃশ্যপটের মানুষগুলোকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়...]
→→→
পরদিন সকালে,
মানুষরূপী দেহটা জেগে ওঠে। আর ভাবতে থাকে কি যেন দেখেছিলাম গতরাতে। অল্প কিছুদূর মনে পড়ার পরই, স্মৃতিগুলো যে যার জায়গাবদল করে নেই। সত্ত্বা বেশ খুশি হয়। দেহ সারাদিন চেষ্টা করে যায় পুরো সপ্নটাকে মনে করার। কিন্তু সে ব্যর্থ...
[ মুহুর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ন সত্ত্বার কাছে। একটা ভাল মুহুর্ত সে আজীবন জমা রাখতে পারে স্মৃতিবাক্সে। মুহুর্ত যত সুন্দর স্মৃতিও তত সুন্দর। তাই বলে এটা নয়, খারাপ মুহুর্ত স্মৃতি ধরে রাখবে না। স্মৃতি খারাপ মুহুর্ত গুলোকেও বন্দি করে রাখতে চাইবে। কিন্তু, আপনি যেমন খারাপ জিনিস চান না নিজের জন্যে, ঠিক তেমনি সত্ত্বাকে বলুন, খারাপ মুহুর্ত গুলোকেও বাদ দিয়ে দিতে...]